মুর্শিদাবাদ সফরে মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশন - The News Lion

মুর্শিদাবাদ সফরে মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশন

 


দি নিউজ লায়নঃ   পরাগ প্রতিম মজুমদার। মুর্শিদাবাদ। পূর্বের কথা রেখে মঙ্গলবার দুপুরে ঝটিকা সফরে মুর্শিদাবাদের একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে করোনা বিধি মেনে একাধিক ছোট আকারের সভা ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুরুর প্রথম সভা জিয়াগঞ্জে এসে  তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে এলাকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক মানুষদের মন কাড়তে বিড়ি শ্রমিকদের উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন তিনি। বলেন," রাজ্য সরকার বিড়ি শ্রমিক অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ জেলায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিড়ি শ্রমিকদের উন্নয়নের জন্য নানান ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। 


যার মাধ্যমে তারা এতদিন ধরে বঞ্চিত থাকার পরে আর্থিক দিক দিয়ে খানিকটা হলেও স্বচ্ছলতা পেতে শুরু করেছে"।এরপরেই ক্রমশ স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বিজেপিকে আক্রমণ সনিয়ে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। সেক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদির ঘোষণা অনুযায়ী  ১ মে থেকে খোলা বাজারে করোনার ভ্যাকসিন মিলবে। ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সকলেই পাবেন টিকা। সেই সিদ্ধান্ত কে কটাক্ষ করে এদিন নেত্রী পাল্টা আক্রমণ করে বলেন , “ দেশে এত মানুষ আক্রান্ত হতে শুরু করার পর কেন্দ্র বলছে খোলাবাজারের করোনার টিকা মিলবে।


 কিন্তু মিলবে কী করে? এত ভ্যাকসিন কোথায়। সেইসব খবর কি প্রধানমন্ত্রী রাখেন"।এদিন জিয়াগঞ্জে নির্বাচনী জনসভা দ্রুত শেষ করে করো না নিয়ে মানুষকে সতর্ক করে তিনি চলে যান জেলার অপরপ্রান্ত সাগর দিঘিতে পরবর্তী সভায়। সবার মধ্যে থেকে করোনা নিয়ে মানুষকে সতর্ক বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,"আগামী দিনগুলিতে ভোটের সময় সকলে সাবধানে থাকুন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন"। অন্যদিকে কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকেও একহাত নিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে তৃণমূলনেত্রী ভৎসনা করে বলেন, “আমাদের দেশ থেকে করোনার ৬৪ শতাংশ ওষুধ বিদেশে পাঠিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। তাই এখন আমার দেশের মানুষ মরে গেলেও আর ওষুধ পাবেনা।


  বিদেশে ওষুধ পাঠাচ্ছেন, নিজের দেশের কথা ভাবলেন না একবারও।” একইসঙ্গে তাঁর দাবি, “খোলাবাজারে ভ্যাকসিন মিলবে বললেই শুধু হবে না। বাজারে টিকার সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে।” প্রসঙ্গত,এদিনই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। বাড়ি থেকেই বাংলার নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা করবেন তাঁরা। তা নিয়েও এদিন কটাক্ষ করলেন মমতা। সভা চলাকালীন তিনি বলেন, “আজ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। বাড়ি থেকে বসে ওঁরা কাজ করবেন। বাড়ি থেকে কাজ মানে তো বুঝতেই পারছেন। 


সবটাই বিজেপি করে দেবে। এটা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই"।অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের উপনির্বাচন নিয়ে দুটি কেন্দ্র সামশেরগঞ্জ ও জমিপুর প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,“ইদের দিনটা তো কমিশনের ক্যালেন্ডারেও ছিল। তবু ওইদিন ওঁরা নির্বাচনের দিন ধার্য। সে পুজোর দিনই হোক কিংবা ইদের দিন হোক, মানুষ ভোট দেবে। এভাবে মানুষকে ভোট দেওয়া থেকে আপনারা আটকাতে পারবেন না"।এদিন বিজেপির সঙ্গে আঁতাঁত নিয়ে বাম-কংগ্রেসের জোটকে নিশানা করেন মমতা। তাঁর কথায়, বিজেপির সবচেয়ে বড় দালাল এই জোট। সিপিএম-কংগ্রেসের সব হার্মাদরা এখন বিজেপিতে।


 বিজেপিকে রুখতে পারে তৃণমূল।” তাই সব ভোট জোড়াফুলে দেওয়ার আবেদন জানান মমতা। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, বাংলায় ক্ষমতার মসনদে বসতে বিজেপি হিন্দুদেরকে সাম্প্রদায়িক ভাবে ব্যবহার করতে চাইছে। তাই সকলের উচিত বিজেপিকে বর্জন করা। একমাত্র প্রকৃত উন্নয়ন ও মানুষের সম্প্রীতি বজায় রাখতে পারে তৃণমূল। সেই কারণে মুর্শিদাবাদ থেকে ২২ টি আসনের তৃণমূল প্রার্থীদের আগামী দিনে যে তাতে হবে"। এইবার তাই এদিন শেষ পর্যন্ত দেন তৃণমূল নেত্রী।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.